By May 11, 2017 Read More →

উৎপাদন ও মুনাফা বৃদ্ধির জন্য ফ্যাক্টরি প্ল্যানিং-এর গুরুত্ব

একজন প্ল্যানার বা কনসালটেন্ট একটি নতুন ফ্যাক্টরীর পরিকল্পনা করার সময় নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করেন।

১. সর্বাধুনিক ও সর্বোচ্চ উৎপাদনমুখী মেশিন লে-আউট

একটা ফ্যাক্টরীর উৎপাদনশীলতা মেশিন লে-আউটের উপর খুব বেশী নির্ভরশীল। কোন মেশিন কোথায় বসবে, কোন ব্র্যান্ডের মেশিন ব্যবহার করা হবে, মেশিন মেইন্টেনেন্স-এর জন্য কতটুকু জায়গা রাখতে হবে, ইন্সপেকশন/প্রোডাকশন/মুভমেন্ট এর জায়গা গুলো কেমন হবে, এসব কিছুই ফ্যাক্টরীর এফিশিয়েন্সি নির্ধারন করে দেয়।

২. জমির সর্বোত্তম ব্যবহার

বাংলাদেশে জমির অভাব খুবই প্রকট, আর দামও বেশী। ফ্যাক্টরীর প্ল্যানিং-এর সময় জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা খুব জরুরী। শুধু তাই নয়, প্রতি স্কয়ার ফিট বিল্ডিং নির্মান খরচও কম নয়। তাই ফ্যাক্টরীর ভেতরের জায়গা যেন অপচয় না হয়, সেদিকেও নজর রাখা জরুরী।

৩. ফ্যাক্টরী তৈরীর খরচ কমানো

একজন প্ল্যানার অবশ্যই এমনভাবে পরিকল্পনা করবেন যাতে ফ্যাক্টরী তৈরীর খরচ বৃদ্ধি না পায়, তবে সেটা করবেন যাবতীয় স্ট্যান্ডার্ড মেনেই।

৪. অপারেশনাল খরচ কমানো

ফ্যাক্টরী তৈরী হয়ে যাওয়ার পর প্রতি মাসের অপারেশনাল এক্সপেন্স কমানোটা সবচেয়ে বড় চ্যালেন্জ। অপারেশনাল খরচের খাত মূলতঃ অনেক। যেমন –

ক. কর্মী / শ্রমিকদের বেতন ও ভাতাদি।
খ. বিদ্যুত খরচ
গ. গ্যাস ও পানির খরচ
ঘ. পরিবহন খরচ
ঙ. কাঁচামাল কেনা ইত্যাদি।

সঠিকভাবে মেশিন লে-আউট করে কর্মীদের সংখ্যা যেমন কমানো যায়, ঠিক তেমনি কাঁচামালের অপচয়ও রোধ করা যায়। সঠিক পরিকল্পনা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুত, গ্যাস, পানি, পরিবহন ইত্যাদির খরচ অর্ধেকে নিয়ে আসা সম্ভব। এতে করে ইনভেস্টমেন্ট-এর পরিমান কমে আসে, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায় এবং সর্বোচ্চ মুনাফা নিশ্চিত করা যায়।

৫. উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি

ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডান্ট্রির যেকোনো শাখায়, তা সেটা টেক্সটাইল হোক, রেডিমেড গার্মেন্টস হোক, আর অন্য কিছুই হোক, উৎপাদনের পদ্ধতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত ও উন্নত হচ্ছে। কয়েক বছর আগের পদ্ধতির সাথে বর্তমানের পদ্ধতির যেমন অমিল রয়েছে, ঠিক তেমনি উৎপাদনশীলতার মধ্যে রয়েছে আকাশ পাতাল পার্থক্য। একজন প্ল্যানার অবশ্যই সবচেয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে ফ্যাক্টরী তৈরী করবেন।

৬. কমপ্লায়েন্স

১০০% এক্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড ফ্যাক্টরীগুলোতে, বিশেষ করে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীগুলোতে বায়ার কমপ্লায়েন্স মেনে চলা সবচেয়ে জরুরী। সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স, সিকিউরিটি কমপ্লায়েন্স ও টেকনিক্যাল কমপ্লায়েন্স এর পাশাপাশি একর্ড, এলায়েন্স, আই.এল.ও ইত্যাদির গাইডলাইনস মেনে চলা খুব জরুরী।

ফ্যাক্টরী তৈরীর শুরুতেই প্রোডাকশন ক্যাপাসিটি বের করে ম্যানপাওয়ারের একটি পরিকল্পনা করে ফেলা উচিৎ, কারন কর্মী সংখ্যার উপর একটি কমপ্লায়েন্ট ফ্যাক্টরীর অবকাঠামোর অনেককিছু নির্ভরশীল, যেমন, ডাইনিং, ক্যান্টিন-এর আয়তন, টয়লেট-বাথরুমের সংখ্যা ইত্যাদি।

সুপেয় পানি, স্পট রিমুভিং রুম, ইটিপি ইত্যাদির অবস্থানও একটি কমপ্লায়েন্ট ফ্যাক্টরীর জন্য গুরুত্বপূর্ন।

৭. সুরক্ষা ও নিরাপত্তা

একজন প্ল্যানারকে অগ্নিসুরক্ষা, যেকোনো প্রাকৃতিক দূর্যোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার উপায়, ইভাকুয়েশন প্ল্যান ইত্যাদির কথা মাথায় রেখে ফ্যাক্টরী প্লানিং করতে হবে। সেই সংগে চুরি, ডাকাতি, স্যাবোটাজ, শ্রমিক অসন্তোষ থেকে ফ্যাক্টরী ও কর্মীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে হবে।

৮. পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো

একজন দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে ফ্যাক্টরীকে গড়ে তুলতে হলে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মান জরুরী। এটা অপারেশনাল খরচকেও দারুনভাবে কমিয়ে নিয়ে আসে। পানিকে রিসাইকেল করা, বৃস্টির পানি ধরে রাখা, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুতের অপচয় রোধ, বয়লারের স্টিম রিসাইকেল করার মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব হওয়ার পাশাপাশি ব্যয় কমানো একটি আধুনিক ফ্যাক্টরীর অন্যতম বৈশিষ্ঠ্য।

এসব কিছুই পরিকল্পনা একজন পরিকল্পনাবিদ বা একজন পরামর্শকের কাজ। কাজেই, ফ্যাক্টরী করার আগে যথাযথভাবে প্ল্যান করুন, প্রয়োজনে একজন দক্ষ পরামর্শকের সহায়তা নিন।

আর যদি দরকার হয়, আমরা তো আছিই, আমাদের পাবেন এখানে

Comments

comments

Posted in: Blog

Comments are closed.